1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:১৯ অপরাহ্ন

সাংসদ হাজি সেলিমের ১০ বছর সাজা বহাল রেখে রায় প্রকাশ

আদালত প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজি সেলিম। ছবি- সংগৃহীত

‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে দেড়যুগ আগের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে গত বছর রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে ৬৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় দুটি ধারায় বিচারিক আদালতে ১০ বছর ও ৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল হাজি সেলিমের। এর মধ্যে একটি ধারায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে আরেকটি ধারায় ৩ বছরের সাজা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছিল তাকে।

গত বছর ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এ টাকা পরিশোধ না করলে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করার কথা বলা হয়েছিল রায়ে। তা ছাড়া এ মামলা সংক্রান্ত জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রায়ে।

রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুরান ঢাকার এই আওয়ামী লীগ নেতাকে বিশেষ জজ আদালত-৭ এ আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেছিলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিননামা বাতিল করে তার বিরুদ্ধে যেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ’

হাইকোর্টে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ায় এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে দণ্ডিত হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগমের আপিলটি বাতিল করা হয়েছিল। জ্ঞাত আয় সম্পদ অর্জনের দায়ে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় গুলশান আরা বেগমকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল বিচারিক আদালত।

হাইকোর্ট রায়ে বলেছিল, বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হাজী মোহাম্মদ সেলিমের আপিল সংশোধন করে (আংশিক গ্রহণ ও আংশিক খারিজ) দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা সংক্রান্ত আপিল গ্রহণ করা হল। এই আইনের ২৭ (১) এ আপিলের অংশ খারিজ করা হলো।

আদালতে হাজী সেলিম ও তার স্ত্রীর আপিলের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার ও আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্রপে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মনির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তামান্না ফেরদৌস।

ফৌজদারি মামলায় এই দণ্ডের কারণে হাজী সেলিমের সংসদ সদস্যপদও এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আইনপ্রণেতা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই কিংবা ততোধিক বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবে না এবং মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না।

তবে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন। ’ তিনি মনে করেন, সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য পদ ‘থাকবে’।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল বিশেষ আদালতের রায়ে তাকে মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর জ্ঞাত আয় সম্পদ অর্জনে ‘সহযোগিতার’ দায়ে হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগমকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম ও তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেন।

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে দুদক। ওই আপিলের শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সে নির্দেশনার আলোকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর দুদক হাজী সেলিমের আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করে। সে আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট ১১ নভেম্বর এ মামলার বিচারিক আদালতের নথি তলব করেন। নথি আসার পর গত ৩১ জানুয়ারি আপিলের শুনানি শুরুর পর গত বছর ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews