1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১১:১৫ অপরাহ্ন

চাকমাদের গঝা বা গুত্তি পরিচিতি

হিল চাকমা
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মে, ২০২২
চাকমা সম্প্রদায়

চাকমাদের বংশ বা গোষ্ঠীর বিবরণ বিশ্লেষণ করা কিছুটা অসুবিধা। চাকমাদের বহু গঝার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবু সংক্ষেপে আলোচনা করা হচ্ছে। চাকমারা জাতি হিসেবে ক্ষুদ্র হলেও তাদের ম‌ধ্যে আবার বহু গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যায়। এই গোষ্ঠি মূলত সম্ভ্রান্ত বা নামিদামি কোন একজন লোক থেকে উৎপত্তি হয়। আবার এমনও হইয়াছে বিভিন্ন গোষ্ঠির লোক নিয়া গঝা সৃষ্টি হইয়াছে। কাজেই চাকমাদের সমাজে পরিচয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই গোজার অনুসন্ধান করিতে হয়। গোজার সংখ্যাও কম নহে, গোজার শব্দটি পদ বাচক সংস্কৃত গুচ্ছ শব্দের একই অর্থ।
ইহাকে চাকমারা আরও বিকৃত উচ্চারণে “গোজা” আর গোষ্ঠীর শব্দকে “গুত্তি” উচ্চারণ করিয়া থাকেন। সাধারণতঃ পিতৃকুল নিয়া গোষ্ঠী আর সম্প্রদ্বায় নিয়া গোজার অর্থ করেন। দেখা যায় পিড়াভাঙ্গা গোষ্ঠীর লোক যেমন ধামাই গোজায় আছে আবার ঐ একই গোষ্ঠীর লোক লারমা গোজায়ও আছে। এই ভাবে এক গোষ্ঠীর লোক দুই বা ততোধিক গোজায়ও আছে।
নিম্নে কয়েকটি গোজার নাম দেওয়া হইলঃ
♦১। বগা গোজা – ধূর্য্যা নামীয় কোন এক সম্ভ্রান্ত সর্দার বাঁশখালীর বাকখালী নদীতী‌রে (চট্রগ্রাম জেলায়) ছিলেন। তাঁহার অধঃস্তন বংশধরদিগকে ধূর্য্যা গোষ্ঠী বলা হয়। এরা বগা গোজা। এ গোজার সর্দারের বর্ণ উজ্জ্বল গৌর এবং পা ও গলা লম্বা ছিল।এজন্য তাকে বগা(বক) নামে ডাকা হত। এই গোজাভূক্ত গু‌ত্তি গুলো হল: ধূর্য্যা, নিনান্দ্যা, কাঠ্যোয়া, রাম দালিকা, মুলিখাজা, ভেলে, কাত্তুয়া, বোয়া নানু কতুয়া ইত্যাদি। গোজার প্রধান:শ্রীযুক্ত সূর্য্যচন্দ্র তালুকদার।
♦২। কুর্য্যা গোষ্ঠী- এই দলপতির নাম কুর্য্যা। তিনি এক সময়ে তিনমুড়ি নদীর তীরে বাস করিতেন বলিয়া তাহা হইতে তৈন্যা গোজা নামে পরিচিত।
♦৩। মুলিমাগোজা- ধামানা গোষ্ঠী- এক সময়ে এই দলপতি ছিলেন মহুরী নদীর তীরে। দলপতির নাম মুলিমা থংজা। মুলিমা থংজা এক সময় রাজার মন্ত্রী ছিলেন। তাঁহার নামানুসারে মুলিমা গোজা নাম হয়।
গোষ্ঠী: ধাবান, মিঠা, নোয়ান্যা, কলা, বামুন, চেগে, পচা, সল্যা, চাদং, বাদালি, রাঙাছিলন্যা।
♦৪। লচ্চর গোজা: ভিদ্দিনী, ওয়াংঝা, গজাল, পিড়াভাঙা ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত পঞ্চারাম তালুকদার।
♦৫। লার্মা গোজা- বর্তমান লামার একস্থানে পিড়াভাঙ্গা বংশীয় লার্মা নামে এক সর্দার ছিলেন। তাঁহারই নামানুসারে লার্মা গোজার নামকরণ হয়। আবার মতান্তারে, কোন স্থান হতে লামিয়া গিয়াছিল বলে লার্মা গোজার নাম হইয়াছে। বর্তমান লার্মা উহারই নামান্তর। পূর্বনাম পিড়াভাঙা।
গোষ্ঠী: চায্যা,বগা,ভবা,ঠদেগা,সমঝা ইত্যাদি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত যুবরাজ দেওয়ান।
♥৬। কুরাকুট্যা গোজা- মাতামূহুরী নদীর এক উপনদীর ” কুরা আঙুত্যা ছড়া” ছিল ঐ উপনদী অঞ্চলে এক সর্দার ছিলেন। তাঁহার নাম নেন্দাব। কেহ কেহ ঐ ছড়া মহিশখালী দ্বীপে বলিয়া থাকেন। ঐ অঞ্চলের নেন্দাব এর বংশধরেররা বা তার অধঃস্তন ব্যক্তিরা কুরাকুট্যা গোজা নামে পরিচিত। মতান্তরে, এক সময়ে ইহারা রাজবাড়ীতে মোরগ বা কুড়ো কাটিত বা ঐ কাজের ভার তাহাদের উপর ছিল বলিয়া এই নামে আখ্যা পাইয়াছে। কোন এক সময়ে তাহারা পার্বত্য ত্রিপুরায় গেলে, ত্রিপুরা মহারাজ সর্দারকে “নারাণ” আখ্যা দেন। নারাণ সেনাপতি বাচক শব্দ। হোত্তি হলো নেন্দাব, সুরেশ্বরী,তেতৈয়া, আউনাপুনা,কাউয়া,ভূত,ভদং,অমরী ইত্যাদি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত গঙ্গামানিক দেওয়ান।
♦৭। বড়ুয়া গোজা- পূর্বের বড়ুয়ারা রাজ প্রাসাদের যাবতীয় কার্য্যাদি করিতেন। কিন্তু তাহাতেও লোকের অভাব হইলে বিভিন্ন গোজা হইতে আরও ১৫০শত পরিবার সংগ্রহ করতঃ ঐ কাজে নিয়ূক্ত করা হয়। ইহাতে তাঁহারা বড়ুয়ার কাজ করিত বলিয়া কালে কালে ঐ সম্প্রদ্বায় বড়ুয়া গোজা নামে খ্যাত হয়। মতান্তরে, সেনাপতি রণ পাগালার পুত্র বুড়া বড়ুয়ার অধঃস্ত লোকদের রাজার দেহরক্ষী, পাচক, হুকুমদারী ইত্যাদি কাজে নিয়োগ করা হয়। ইহারাই সময়ে বড়ুয়া গোজা নামে পরিচিত হয়। এই গোজা রাজপাড়ালিয়া নামেও পরিচিত।
গোষ্ঠী:প্রায় সকল গোষ্ঠীর লোক এই গোজায় আছে।
প্রধান:শ্রীযুক্ত ভৈরব চন্দ্র দেওয়ান।
♦৮। বড়চেগে গোজা- পূর্বে রাজা রাম থংজার ছেলের নাম ছিল তৈন চেগে, বুন চেগে, রাঙ্যা কাউর ও কালা কাউ। এই চারি পুত্রের মধ্যে তৈন চেগে ও রাঙ্যা কাউর এর বংশধরেরা চেগে গোজা ও বড় চেগে গোজা। তৈন চেগে মন্ত্রী ছিলেন। তখনকার সময়ে মন্ত্রিদের চেগে বলা হতো।
বড়চেগে গোজা: কাট্যাল, উন্দুর তালা, দাড়িরাঙা, চেলিপুনা,পুংঝা, লোহা কদ্দা ইত্যাদি গোষ্ঠি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত চন্দ্রধন তালুকদার।
♦৯। ওয়াংঝা গোজা- রাঙ্যা কাউর ও কালা কাউরের বংশধর গাবুর ওয়াংঝা ও বুড়া ওয়াংঝা নামে “ওয়াংঝা গোজা” নামে পরিচিত। ওয়াংঝা গোজা: কাঁকড়া, শেঠ্যা,পুংঝা ইত্যাদি।
প্রধান: চাকমা রাজা গণ।
♦১০। কাম্বে গোজা- রাজার পাল্কী বহনকারীদের কার্বোয়া বলিত। ঐ কার্বোয়ার বংশধরেরা কাম্বে গোজা।
কাম্বেই গোজাতে গোত্তি মেন্দর, কালাপেনজাঙি ইত্যাদি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত জয়ধন তালুকদার।
♦১১। উচ্ছরী গোজা- পূর্বে হেলই নামে এক ধনুবিশেষ অস্ত্র ছিল। উহার দ্বারা বড় বড় শিকার মারা হইত। উহারই এক প্রধান শিকারীর নাম আসুরী। তাঁহারই বংশধরেরা উচ্ছরী গোজা। গোজাভূক্ত গোষ্ঠী নেই।
প্রধান: শ্রীযুক্ত শশীকুমার দেওয়ান।
♦১২। পুমা গোজা- কচ্ছ নামীয় এক খীসা সর্দারের বংশধরেরা পুমা গোজা।
পোমা গোজাদের মধ্যে জান্দর,গুইয়া,তুদা ইত্যাদি গোত্তি রয়েছে।
গোজা প্রদান:শ্রীযুক্ত রাজকুমার তালুকদার।
♦১৩। দার্য্যা গোজা- পূর্বে দার্য্যা নামীয় এক দলপতি সর্দারের মাথায় ভীমরাজের পালক গুজিত। ঐ সূত্রে দার্য্যা গোজা।
গোজাভূক্ত গোষ্ঠী:কোমরেং,নানু কতোয়া,কাতুয়া ইত্যাদি।
গোজা প্রধান:শ্রীযুক্ত নবীন চন্দ্র তালুকদার।
♦১৪। কুদুগ গোজা- কুদুক সেন নামীয় এক শক্তিশালী ব্যক্তি এক সময়ে রাজার নিকট এক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হইয়া এক তালুক প্রাপ্ত হন। তাঁহার বংশধরেরা কুদুগ গোজা।
গোষ্ঠি: ভূলা, কালাবাগা ইত্যাদি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত হরিধন তালুকদার।
♦১৫। রাঙী গোজা- রাঙী পানছড়ি নামীয় সর্দারের বংশধরেরা মতান্তরে বূং চেগের পূত্র রাঙী ধারের ও রাঙী ফানেশ্বর হইতে রাঙী গোজা।
গোষ্ঠী:লৌহ ঝাত্তোয়া,বুংচেগে,কাল,মেন্দর, চেগে,ভেঙেয়া ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত কর্ণচন্দ্র তালুকদার।
♦১৬। খ্যংজয় গোজা- এই গোজা ৮ গোষ্টীতে বিভক্ত। যথা, চৈয়দনী, সেম, ধ্বজা, বেদ্দু, বাঙ্গালী, নাপিটা, চকই ও কবাল্যা মোট ৮ গোষ্ঠীতে বিভক্ত। তবে চৈয়দনী গোষ্ঠী প্রধান।
♦১৭। পোয়া গোজা: এক সময়ে কোন গ্রামে বয়ো:বৃদ্ধাগণ জুম কাটতে গিয়েছিল। বাড়ীতে শিশুসন্তান ব্যতীত আর কেউ ছিল না। এসময়ে কুকিরা এসে সেই গ্রামে আক্রমণ করে। শিশুরা একমাত্র “কানন্টাগুলি”র সাহায্যে আত্বরক্ষা করেছিল বলে, অপূর্ব বীরত্বপূর্ণ সেই বালকদের বংশধরেরা বালক অর্থাৎ “পোয়া” গোজা নামে আখ্যাত হয়েছে। কথিত আছে ব্যক্তি থেকে গোষ্ঠির উৎপত্তি। তিনটি গোষ্ঠিই মানেই তিন ভাই ছিল। সবচেয়ে বড় ভাই হক্কিঙ্গ্যা, মেজো ভাই কজমা, আর সবচেয়ে ছোট ভাই লাংদা গোষ্ঠি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত নীলরথ তালুকদার।
♦১৮। চেক্কবা গোজা:গোজাভূক্ত গোষ্ঠী নাই।
প্রধান:শ্রীযুক্ত বিজয়গিরি তালুকদার।
♦১৯। তৈন্যা গোজা:পূর্বনাম কুর্য্যা,তৈন্যাছড়ির তীরে বসবাস করত।
গোষ্ঠী:কুর্য্যা,ধূর্য্যা,মুলিয়,পৈয়ব ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত কৈলাসাধন তালুকদার।
♦২০। ফেদুংজা গোজা:মুলিয়া,কপাল্যা,
পুংঝা, কাশমানিক,ইন্দুর তালা,কালাপিলা বাপ ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র দেওয়ান।
♦২১। বুংছা গোজা: কাঁকড়া,মোছচড়া,চগদা ইত্যাদি গোত্তি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত পুরখা দেওয়ান।
♦২২। মুনিয়া গোজা:পূর্বনাম ধাবানা,মুড়ি নদীর নামানুসারে।
গোষ্ঠী:ধাবান,মিঠা,নোয়ান্যা,কলা,বামুন,
চেগে,পচা,সল্যা,চাদং,বাদালি,রাঙাছিলন্যা।
প্রধান: শ্রীযুক্ত রাজচন্দ্র দেওয়ান।
♦২৩। মুনিয়া চেগে গোজা: চকোয়া,শেলপাত্যা,শেলছ্যা ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত কিনাধন তালুকদার।
♦২৪। ফাকসা গোজা: বালকা,বরৈবেচা,
তিনভেদা, কলাচেম,বড়কুজ্জ্যে,ছোটকুজ্জ্যে ইত্যাদি গোত্তি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত রমনীমোহন দেওয়ান।
♦২৫। আঙুন গোজা: হোজাল সল্যা আঙুন নামানুসারে এই গোজার উৎপত্তি।
গোষ্ঠী:গোদা,মঘ,মিঙিরাপুনা।
প্রধান: শ্রীযুক্ত মানিকচন্দ্র তালুকদার।
♦২৬। চেগে গোজা: দুঃখে চেগের নামানুসারে।
গোষ্ঠী:লুলাং,ধাবানা,ভুরুমা,কাঁকড়া,বহলা ইত্যাদি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত সূর্যমণি খীসা।
♦২৭। লেবাগোজা: রাজার নাম উচ্চারণে জড়তা থাকায় এই দলের প্রধান ব্যাক্তির আখ্যা লেবা দেওয়া হয়েছিল।
প্রধান: শ্রীযুক্ত ভাগ্যধন তালুকদার।
♦২৮। বোম গোজা: আমু,জাদি,বাদালি, পারবোয়া ইত্যাদি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত অভয়চন্দ্র তালুকদার।
♦৩১। হাইয়ো বা ইয়ো গোজা:কুয্যা,ধূয্যা,মুলিয়,
জাল্যা,সল্যা,তালুকদার ইত্যাদি গোষ্ঠি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত নীলধন তালুকদার।
♦৩২। চাদগ গোজা: চাদগ সর্দার নামানুরে এই গোজা। সর্দার,শেয্যা,রসিরি ইত্যাদি গোষ্ঠি।
প্রধান: শ্রীযুক্ত নীলকান্ত দেওয়ান।
♦৩৩। বাবুরোগোজা: বাবুরো,গজাল্যা, মানাইয়া, লৌহকদ্দা,ভগতপ ইত্যাদি গোষ্ঠি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত অক্ষয়মনি তালুকদার।
♦৩৪। পেদংছাড়ি গোজা:কুয্যা,মলিয়,পৈয়ব ইত্যাদি গোষ্ঠি।
প্রধান:শ্রীযুক্ত কিনারাম তালুকদার।
♦৩৬। ধামাই গোজা- পিড়াভাঙ্গা গোষ্ঠী- এই সর্দার পিড়াভাঙ্গার পূত্র গিজা ধাবেং, মেজা ধাবেং এবং কন্যা নূতনপতি তাঁহাদের বংশধর বা অধঃস্তান লোকদিগকে ধামাই গোজা বলে। পিড়াভাঙ্গা এক সময় মন্ত্রী ছিলেন আর ধাবেংরা ছিলেন রাষ্ট্রদূত।
জানা না থাকায় আরো হয়তো অনেক গোজা গুত্তির কথা লিখতে পারিনাই। মূলতঃ চাকমা জাতির মূল চারি গোজা হইতে ক্রমে ক্রমে তাহাদিগের বংশধরেরা বিস্তৃত হইয়া পড়ে। ব্যক্তিগত বিশেষত্ব লইয়া অনেক গোজা গোষ্ঠীর নামকরণ করা হইয়াছে। তবে এই গোজা গোত্তি সমাজে প্রচলন না থাকাই ভালো। কেননা সমাজে সবাই চাকমা গোজা আর চাকমা গুত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews