1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

সারাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান: ৮২ হাসপাতাল ও ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মে, ২০২২
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান আদালত সারাদেশে ৮২ টি অনুমোদনবিহীন হাসপতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের ১৫টি জেলায় অভিযান চালিয়ে ৮২টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ফরিদপুর জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলায়। এ ছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় ১১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হবিগঞ্জের দুই উপজেলায় ১১টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। অভিযানকালে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন এসব অভিযান চালায়। এতে সহায়তা করে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশে অবৈধ, অনিবন্ধিত ও নবায়নহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ করতে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়ার পর এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। আজ রবিবার সেই সময় শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে যেসব অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বন্ধ হবে না, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. বেলাল হোসেন এই তথ্য জানান।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছয়টি নগরের ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে মানসম্মত পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা, বৈধ কাগজপত্রের অভাবসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেন। সকাল ১০টায় চট্টেশ্বরী রোডের চট্টগ্রাম কসমোপলিটন হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড পরিদর্শনে যান সিভিল সার্জন। এ সময় কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাসপাতালের লাইসেন্সসহ বৈধতার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে সিভিল সার্জন ডবলমুরিং থানার ডিটি রোডের পপুলার মেডিক্যাল সেন্টারে যান। এখানে রক্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য পাস করা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নেই। বাইরে থেকে প্যাথলজিস্ট দিয়ে রিপোর্ট করানো হয়। এক্স-রে রুম ও প্যাথলজি রুম মানসম্মত নয়। লাইসেন্স বা ভ্যাট-ট্যাক্সের কাগজপত্র নেই। এরপর দামপাড়া নিরুপণী প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে তিনি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পান। তারা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন ও টিন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি। পরে পাঁচলাইশ ট্রিটমেন্ট ভবনের ওপরে সিএসটিসি হসপিটালে ২০ মিনিট অপেক্ষা করেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারেননি। সিভিল সার্জন এ চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আর পাঁচলাইশে ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল ও পলি হাসপাতাল লিমিটেডকে সেবার মূল্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বাসসকে বলেন, ‘পপুলার মেডিক্যাল সেন্টার ও নিরুপণী প্যাথলজির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পপুলারের এক্স-রে রুমের দেয়াল পাঁচ ইঞ্চি হওয়ায় রোগী, কর্মরত ও আগতরা রেডিয়েশনে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে, যা তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করবে। নিরুপণীর পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ দুটি প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যগুলো কাগজপত্র নিয়ে এলে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’ তিনি বলেন, ‘সিএসটিসিতে দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী আনা হয়। এখানে প্রসূতিদের অপারেশনে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। হাসপাতালটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে আগত ও চিকিৎসারত রোগীদের অন্যত্র চিকিৎসাসেবা নিতে পরামর্শ দিয়েছি। ’

ফরিদপুর জেলা সদরের দুটি, সালথা উপজেলার তিনটি, মধুখালী উপজেলার সাতটি, বোয়ালমারী উপজেলার সাতটি এবং সদরপুর উপজেলার একটি অবৈধ (অনিবন্ধিত, নিবন্ধনের মেয়াদোত্তীর্ণ) ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগ এই অভিযান চালায়।

ভালুকায় বেসরকারি সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, চারটি সাময়িক বন্ধ এবং দুটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ভালুকা মডেল থানা পুলিশের সহায়তায় দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাসানূল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১০টি (পাঁচটি করে) ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাময়িক বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। চুনারুঘাটে সিভিল সার্জন মো. নুরুল হক এবং মাধবপুরে ইউএনও শেখ মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

বগুড়া শহরে অনুমোদন ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি ক্লিনিক সিলগালা এবং ওই ক্লিনিকসহ দুটি ক্লিনিককে সোয়া লাখ টাকা জারিমানা করেছেন। ক্লিনিক দুটি হলো নিউ পল্লী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং এনাম ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাইমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

নরসিংদী শহরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন না থাকায় পাঁচটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামল চন্দ্র বসাক।

টাঙ্গাইলে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনটি ক্লিনিক (পদ্মা ডিজিটাল ক্লিনিক, আমানত ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটাল ও স্বদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার) সিলগালাসহ বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকায় তিনটি ক্লিনিককে (দি সিটি ক্লিনিক, কমফোর্ট হাসপাতাল ও ডিজিল্যাব ক্লিনিক) ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ইউএনও রানুয়ারা খাতুন এ তথ্য জানান।

চুয়াডাঙ্গায় বৈধতা না থাকায় তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ এবং আংশিক কাগজপত্র থাকায় একটি ক্লিনিক ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আওলিয়ার রহমান।

ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকায় অভিযানে অনুমোদন না থাকায় একটি ক্লিনিক সিলগালা (সিটি হাসপাতাল) ও চারটি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ করে দেন সিভিল সার্জন মো. নজরুল ইসলাম।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে লাইসেন্স না থাকায় চারটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইউএনও আম্বিয়া সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠান (জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সাইফুন্নেসা-মকবুল দাতব্য চিকিৎসালয়) সাময়িক বন্ধ এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে (নিরাময় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার) কাগজপত্র ঠিক করতে সময় দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুব হাসান।

নেত্রকোনা শহরের তানিয়া হাসপাতাল ও লিবার্টি হাসপাতালে সরকারি অনুমোদন ও সনদপ্রাপ্ত কোনো নার্স না থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ছাড়া মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ, টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি ক্লিনিক সিলগালা ও জরিমানা, ভূঞাপুরে তিনটি ক্লিনিক সিলগালা, বরিশালের বানারীপাড়ায় একটি ক্লিনিক ও তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ, গৌরনদীতে চারটি ডায়াগনস্টিক সিলগালা, চাঁদপুরের কচুয়ায় চারটি হাসপাতাল সিলগালা ও তিনটিকে জরিমানা, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে একটি হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews