1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

মহারাণী অহল্যাবাঈ

অদেখা ডেস্ক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুন, ২০২২
মহারাণী অহল্যাবাঈ হোলকার ছিলেন ভারতের মারাঠা মালওয়া রাজ্যের হোলকর রাণী। রাজমাতা অহল্যাবাঈ মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরের জামখেদ অঞ্চলের চৌন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার রাজধানী নর্মদা নদীর ওপর ইন্দোরের দক্ষিণে মহেশ্বর অঞ্চলে সরিয়ে নিয়ে যান।
১৭৫৪ সালে কুমহেরের যুদ্ধে মহারাণী অহল্যাবাঈ হোলকার স্বামী খান্দেরাও হোলকর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর বারো বছর পরে, তার শ্বশুরমহাশয়, মল্লার রাও হোলকর মারা যান।
সাম্রাজ্যের ভেতর বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ায় এক বছর পর তিনি নিজেই মালওয়া রাজ্যের রানী হিসাবে দায়িত্বভার নেন। তিনি বহিঃশক্তির আক্রমণকারীদের লুটপাট থেকে তার রাজ্য রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। তিনি তুকোজিরাও হোলকরকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।
রানী অহল্যাবাঈ ছিলেন একজন মহান জনহিতকর ও
প্রজাসেবক এবং ধর্মপ্রাণ অগ্রণী মন্দির ও ধর্মশালা নির্মাতা। তিনি সারা ভারতে শত শত মন্দির ও ধর্মশালা নির্মাণ করেছিলেন।
অহল্যাবাঈ ৩১শে মে ১৭২৫ সালে চৌন্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, বর্তমানকালে এটি মহারাষ্ট্রের আহমদনগর জেলায়। তার বাবা, মানকোজি রাও শিন্দে গ্রামের পাটিল ছিলেন।
সেই সময় মহিলারা বিদ্যালয়ে যেতেননা, কিন্তু অহল্যাবাঈয়ের বাবা গৃহশিক্ষক রেখে তাকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভের নিমিত্তে পড়তে ও লিখতে শিখিয়েছিলেন।
ইতিহাসের পর্যায়ে তার প্রবেশ একটি দুর্ঘটনার মতই ছিল : মল্লার রাও হোলকর, মারাঠা পেশোয়া বালাজী বাজি রাও এর সেবায় নিয়োজিত একজন সেনাপতি এবং মালওয়া অঞ্চলের শাসক ছিলেন।
তিনি একবার পুণে যাওয়ার পথে চৌন্ডি গ্রামে থামেন, এবং, কিংবদন্তি অনুযায়ী, আট বছর বয়সী অহল্যাবাঈকে গ্রামের মন্দিরের সেবায় নিযুক্ত দেখেন।
মেয়েটির ধর্মপ্রাণ শ্রদ্ধা ও ভক্তি এবং চরিত্রের মহিমা অনুধাবন করে, তিনি মেয়েটিকে তার পুত্র খান্দেরাও (১৭২৩–১৭৫৪) এর বধূ হিসাবে হোলকার অঞ্চলে নিয়ে আসেন।
১৭৩৩ সালে তার খান্দেরাও হোলকর এর সঙ্গে বিবাহ হয়। তিনি, ১৭৪৫ সালে, তাদের পুত্র মালেরাও এবং ১৭৪৮ সালে, কন্যা মুক্তাবাঈ এর জন্ম দেন। মালেরাও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং ১৭৬৭ সালে অসুস্থতার কারণে মারা যান।
অহল্যাবাঈ আরেকটি পুরানো ঐতিহ্য ভেঙ্গেছিলেন, যখন তিনি তার মেয়ের বিবাহের সময়। তিনি একজন সাহসী কিন্তু দরিদ্র যশবন্তরাও এর সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে দেন। যশবন্তরাও ডাকাতদের পরাজিত করতে সফল হয়েছিলেন।
মহেশ্বরের রাজপ্রাসাদে মহারাণী অহল্যাবাঈ হোলকরের মূর্তি ১৭৫৪ সালে কুমহের অবরোধের সময় তার স্বামীর মৃত্যু হয়।
১৭৫৪ সালে, ইমাদ-উল-মুল্ক মুঘল সম্রাট আহমদ শাহ বাহাদুরের মীর বখশীর অনুরোধে, অহল্যাবাঈ এর স্বামী খান্দেরাও হোলকর, তার বাবা মল্লার রাও হোলকরের সেনাবাহিনীকে নিয়ে, কুমহের দুর্গ অবরোধ করেন।
এটি ছিল ভরতপুর রাজ্যের জাট মহারাজা সূরজমলের, যিনি মুগল সম্রাটের বিদ্রোহী ওয়াজির সফদর জং এর সাথে হাত মিলিয়েছিলেন।
খান্দেরাও কুমহের এর যুদ্ধে একটি খোলা পাল্কিতে বসে তার সৈন্যদের দিকনির্দেশনা ও পরিদর্শন করছিলেন, তখন জাট সেনাবাহিনীর ছোঁড়া একটি কামানের গোলার আঘাতে তার মৃত্যু হয়।
১৭৫৪ সালে তার মৃত্যুর পর, তার পিতা মল্লার রাও পুত্রবধূ অহল্যাবাঈকে সতী হওয়া থেকে বিরত করেন।মল্লার রাও হোলকর রাজত্ব চালানোর কালীন সময়ে ১৭৬৬ সালে, তার ছেলে খান্দেরাও এর মৃত্যুর ১২ বছর পর, মারা যান।
১৭৬৬ সালে, মল্লার রাও এর পৌত্র এবং খান্দেরাও এর একমাত্র পুত্র মালেরাও হোলকর, অহল্যাবাঈ এর কর্তৃত্বাধীনে ইন্দোরের শাসক হন, কিন্তু তিনিও কয়েক মাসের মধ্যেই, ৫ই এপ্রিল ১৭৬৭ সালে মারা যান। তার পুত্রের মৃত্যুর পর অহল্যাবাঈ ইন্দোরের শাসক হন।
কিন্তু মাল্লে রাও রাজ্য শাসনে ছিলেন অযোগ্য ও অপ্রকৃতস্থ। পুত্র মাল্লে রাওয়ের শাসন কার্যক্রমে প্রজারা শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকলে, ও অন্য রাজ্যের আক্রমণের সম্ভবনা দেখা দিলে।
কিছুকাল পরে তাই অহল্যা বাই পুত্রকে ক্ষমতা থেকে সড়িয়ে দিয়ে স্বয়ং নিজেই শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করতে শুরু করেন।
অহল্যাবাঈ রাজ্যের অত্যন্ত দক্ষ অভিজ্ঞ, সৎ রাণীর বিশ্বস্ত তুকোজি হোলকার নামে জনৈক যোদ্ধাকে হোলকার রাজ্যের প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করেন। এইসময় হোলকার রাজ্যের কোনো কোনো নেতা অহল্যা বাইয়ের বিরোধিতা করতে থাকেন।
অহল্যা বাই ছিলেন অত্যন্ত যোগ্য, বিচক্ষণ ও নিপুণ শাসক। তাই বিরোধীদের শক্ত হাতে দমন করে স্বিয় মেধা ও যোগ্যতার বলে সব সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে এনে রাজ্যে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।
অহল্যা বাইয়ের শাসনের ফলে হোলকার রাজ্যের তথা রাজধানী ইন্দোরের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল। বহু প্রজাদের সুবিধার্থে রাজপথ, কিছু মন্দির, কয়েকটি ধর্মশালা, হাট বাজার, পুকুর খনন সহ প্রভৃতি জনহিতকর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নির্মাণ করিয়েছিলেন অহল্যা বাই।
অহল্যাবাই মহারাষ্ট্র দেশে মালহর রায়ের স্ত্রী ছিলেন। তাঁহার এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল। পুত্রের অকাল মৃত্যু হইলে বিয়োগ মুষড়ে পড়েন। কিন্তু মোটেও ভেঙ্গে পড়েননি।
কিছুদিন পড়ে কন্যার স্বামির অকাল মৃত্যু হওয়াতে কন্যা সহমরণে প্রবৃত্ত হইলেন। অহল্যাবাই কন্যাকে বিভিন্ন ভাবে নিবৃত্ত করিতে আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াছিলেন; কিন্তু কন্যা তাঁহার কোন কথা শুনিলেননা।
মাতা মহারাণী অহল্যা বাই তখন শান্ত হইয়া চিতায় কন্যার সহমরণ পাষাণ হৃদয়ে বসিয়া দেখিলেন। ত্রিশ বৎসর বয়সে স্বামী পুত্র সন্তান হীন অবস্থায় অহল্যাবাই মানসিক শক্তি সঞ্চার করে ফের রাজ্যের ভার গ্রহণ করিলেন।
অহল্যা বাই অন্দরমহলের বাহিরে আসিয়া সিংহাসনের উপর বসিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজকাৰ্য্য করিতেন। এসময় অহল্যা বাই এর এই অবস্থা দেখে রাজপরিবারের অনেকেই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল।
অহল্যা বাই প্রাতে উঠিয়া উপাসনা কার্য সম্পাদন করার পড়ে ধর্ম গ্রন্থাদি পাঠ শুনিতেন, পরে ব্রত নিয়মাদি সাঙ্গ করিয়া দরিদ্র প্রজাদের দান খয়রাত করিতেন।
অহল্যা বাই রাজভোজ করিতেননা। এমনকি মাছ মাংসও খাইতেন না। আহারের পরে শ্বেতবস্ত্র পরিধান করিয়া কেবল গলায় এক ছড়া হীরকের চিক পড়ে রাজকার্যের নিমিত্তে বাহিরে আসিয়া সিংহাসনে বসিতেন।
অহল্যা বাই প্রতিনিয়ত বেলা ২ টা থেকে ৬ টা পৰ্য্যন্ত রাজকাৰ্য্যে নিযুক্ত থাকিতেন। প্রজাদিগের সুখ দুখ, সমস্যা সমাধান সহ তাদের প্রাণ ও বিষয় রক্ষা করার প্রতি মনোযোগ দিতেন।
রাজ্যের সকল প্রজাকুলের নিকট হইতে অল্প কর লওয়ায় তাঁহার বিশেষ নজর ছিল। তিনি প্রজাদিগের দুঃখে দুঃখী ও সুখে সুখী ছিলেন। এজন্য প্রজারা রাণীর উপর খুবই তুষ্ট ছিল।
প্রজাদের কখনো কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের হলে তাহাদিগকে ফরমান দিয়ে আনিয়া সকলের অভিযোগের কথা আপন কানে শুনিয়া তারপর অহল্যা বাই বিচারের রায়ের হুকুম দিতেন।
৬ টার পর তিনি আত্মসাধনায় নিযুক্ত থাকিতেন। ধ্যানের পড়ে তিনি ধর্মগ্রন্থ পুরাণ শ্রবণে করিতেন, এতে রাণীর বিশেষ অনুরাগ ছিল। ধর্মকর্ম ও প্রজাদের সেবা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই ছিল তার একমাত্র আরাধনা।
তিনি সবসময় বলিতেন ঈশ্বরের নিকট আমার সৰ্ব্ব কার্য্যের জবাব দিতে হইবে, এজন্য তাঁহার অভিপ্রায়ের কিছু যেন অন্যথা করা না হয়, তাই বিচারকার্য সহ প্রজাদের বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতেন।
তিনি সত্যকে মূল্যায়ন করিতেন ও তোসামদকে ঘৃণা করিতেন। অসত্য ও মিথ্যাকে সদাই বর্জন করতেন।
একজন ব্রাহ্মণ তাঁহার প্রশংসা করিয়া একটি পুস্তক লিখিয়া তাঁহাকে প্রদান করিলে, তোষামোদির কারণে তিনি ঐ পুস্তক নৰ্ম্মদা নদীতে ফেলিয়া দিতে আজ্ঞা দিলেন।
রাণী অহল্যা বাই যেমন ঈশ্বর পরায়ণা নারী ছিলেন, তেমনি তাঁহার বিষয় কাৰ্য্যে পরিষ্কার বুদ্ধি ছিল। তিনি যাচাই-বাছাই করে উত্তম কৰ্ম্মচারী নিযুক্ত করিয়াছিলেন।
তারই কারণে রাণী অহল্যা বাই এর রাজ্যে রাজকাৰ্য্য ৩০ বৎসর নিরুদ্ধেগে সুশাসনের ছোয়া অবহিত হতে পেরেছিল। ফলে রাণী অহল্যা বাই এর —কাহার সহিত অপ্রয়োজনীয় বিবাদ কলহ ও যুদ্ধ হয় নাই।
অহল্যাবাই প্রজাদের কল্যাণ এবং প্রার্থনায় ও শিক্ষার জন্য অনেক মন্দির ও ধৰ্ম্মশালা, কূপ, পুকুর, জলাশয় ও রাস্তা নিৰ্ম্মাণ করিয়া তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন রাজ্যের শাসকদের নিকট সাধুবাদ কুড়িয়েছেন।
তাঁহার দয়া কেবল মানব জাতিতে ছিল না। পশু পক্ষীদের প্রতি তাঁহার বিশেষ কৃপা ছিল। পশু পক্ষী ও জলজ প্রাণীদের নিরাপদ আবাসের জন্য তিনি অনেক গাছপালা ও বৃক্ষ রোপণ ও জলাশয় খনন করে গিয়াছেন।
রাণী অহল্যা বাই মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন ৩১ শে মে ১৭২৫ সালে। তিনি ১৭৯৫ সালের ১৩ই আগস্ট ৭০ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেন অহল্যা বাই। (সংগৃহীত)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews