1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান

অদেখা ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০২২
সেলিনা আখতার-
বিরল সৌভাগ্য ক্রমে যদি একজন কীর্তিমান পিতার সন্তান হিসাবে পৃথিবীতে জন্ম নেয়া যায় তবে সেই পিতার সম্পর্কে দুটো কথা লেখা বেশি কিছু নয় বলেই মনে করি। আমি তেমন একজন পিতার কন্যা হিসেবে পৃথিবীতে এসে নিজেকে ধন্য মনে করি। একটা স্বাধীন দেশের জন্মের জন্য তার অসামান্য ত্যাগ চির উজ্জ্বল হয়ে রইবে। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা যাবেনা। কি অসাধারণ বীরত্বের ইতিহাস আমার বাবার। তার জন্য শুধু আমি নই পুরো বাংলাদেশকে গর্ব অনুভব করতে হবে।
আজ উইকিপিডিয়ার পাতা উল্টে যখন নিজের বাবার নাম আর তার বীরত্বের কথা পড়লাম তখন বারবার চোখ ভিঁজে যাচ্ছিল। সময়ের পরিক্রমায় যদি তিনি বেঁচে থাকতেন তবে তার বয়স এখন ৮০ পেরিয়ে যেতো। তার বয়সী বেশির ভাগ মানুষ বেঁচে নেই। হয়তো দীর্ঘ দিনের লম্বা একটা জীবন তিনি পাননি, হয়তো শিশু সন্তানদের বুকের ছায়ায় আগলে রেখে বড়ো করতে পারেননি, এটা কম কষ্ট নয়। তবুও তিনি কি কম পেয়েছেন?
তিনি, হা তিনি ইলিয়াস খান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র । তিনিই ৮ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলের ফুটবল ময়দানে ২৪ ঘন্টা ট্রেনিং এর মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার বাঙালী সমর্থবান পুরুষদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রেনিং দানের নামে বাঁশের লাঠি দিয়ে অস্ত্র চালানোর কলাকৌশল শিক্ষা দেন। যারা এই শিক্ষা নিয়ে ভারত যায় তারা শুধুমাত্র প্রকৃত অস্ত্রে গুলি ভরা আর গুলি করা শিখে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন।
একজন ইলিয়াস খান ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণের কারিগর। তিনি ১৯৫৯ সালে তৎকালীন ইপিআর বাহিনীতে সরাসরি জুনিয়র কমিশন অফিসার হিসাবে যোগদান করেছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানের মারি, কোয়েটায় গেরিলা ট্রেনিং এ প্রথম হয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে ২১ দিন বেনাপোল বর্ডার শত্রুদের ঢুকতে দেননি। সেই যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য খেতাব পান।
ইলিয়াস খান ১৯৭১ এ যুদ্ধের প্রথম দিন থেকে মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। এই মানুষটি নিজের অল্প বয়সী স্ত্রী এবং শিশু সন্তানের জন্য নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকাননি। তিনি তার তিন শতাধিক সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচানো বেশি মূল্যবান মনে করে অসীম সাহসের সাথে একা সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়ে অন্যদের জীবন রক্ষায় সাহায্য করেন।
নিজের সন্তানের মুখের বাবা ডাক কেড়ে সহযোদ্ধাদের সন্তানের বাবাকে বাঁচতে নিজের জীবন অকাতরে বিলিয়ে দেন। আমার বাবার মতো বীর বাবা কজন পায়? সন্তান হিসাবে এখন নিজেকে ধন্য মনে হয়।
খেতাব প্রসঙ্গ-
আমার বাবা শ্রেষ্ঠ বীর। এ বিষয়ে কারো কি কোনো সন্দেহ আছে? নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল চাচা আমার আমার আব্বার নামটা বীর শ্রেষ্ঠের তালিকায় রেখেছিলেন। কিন্তু কোনো এক কারণে যেদিন খেতাব প্রদান করা হয় সেদিন তিনি সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন না। যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি সেই প্রস্তাবের তালিকা উপস্থাপন করেননি। মেজর জলিল নিজেও কোনো খেতাব পাননি। এসব বিষয়ে লেখার উপাত্তগুলো আপাততঃ আগামীর জন্য রেখে দিলাম। যদি বেঁচে থাকি তবে ভবিষ্যতে নিশ্চয় লিখবো।
আমার বাবা ইলিয়াস খান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন শ্রেষ্ঠ বীর। তার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে না দিয়ে জাতি তার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ ব্যর্থতার দায়ভার আমার পরিবারের নয়। আজন্ম দেনা হয়ে রইবে বাঙালি জাতি আর বাংলাদেশ।
(লেখকঃ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কবি, লেখক এবং সিনিয়র উপ-পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews