1. fauzursabit135@gmail.com : Fauzur Rahman Sabit : Fauzur Rahman Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমদের ৯২তম জন্মজয়ন্তী পালিত কর্মমুখী শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গন্তব্য চীন নবীন প্রবীণের মিলনমেলায় ৪৮ জন গুণী রেডিও এ্যানাউন্সার পেলেন র‍্যাংক সম্মাননা সেলিম আল দীনের মহাপ্রয়াণ দিবসে বগুড়া থিয়েটার পরিবার ঢাকার মানবিক উদ্যোগ মঞ্চ থেকে এবার বেতারের মাইক্রোফোনে সোনাতলার সিজুল ইসলাম বোয়ালখালী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাথে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর সাক্ষাৎ  ত্রিশালে মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: দুদকের অভিযান সমাজকর্মী আব্দুল হান্নানের পিতার মৃত্যুতে সোনাতলা নাগরিক কমিটির শোক আগামী ৯০ দিন অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ হবে না সোনাতলায় রাধাকান্তপুর গ্রামিণ সড়ক বেহালদশায় চলাচলে জনদুর্ভোগ

সাপের ডিমে তা দেয়া বন্ধ করান

মজিব রহমান
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২
সাপের ডিম থেকে দোয়েল পাখি আশা করতে পারি না৷ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভয়ানকভাবেই একেকটা শিক্ষার্থীকে মৌলবাদী মূর্খে পরিণত করছে ৷ তারা হয়ে উঠছে তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক৷ কেন?
সভ্য দুনিয়া মিথ্যার বেশাতি থেকে মুক্ত হয়েছে৷ ফ্রান্স শিক্ষার্থীদের গৃহে পড়ানো নিষিদ্ধ করেছে৷ আমেরিকাসহ সভ্য দেশগুলোতে স্কুলে ধর্ম পড়ানো নিষিদ্ধ৷ বিজ্ঞানবিরোধী কিছু পড়ানো যায় না৷ সভ্যদেশে সবচেয়ে মেধাবীরাই শিক্ষকতা করে৷ আর আমাদের দেশে?
পুরোটাই উল্টো৷ এদেশে মাধ্যমিক হয়ে উঠেছে কোথাও চাকরি না-পাওয়াদের আস্তানা৷ বাংলাদেশের বড় বড় স্কুলে আড়াই/তিন হাজার ছাত্রের বিপরীতে মাত্র ১৫/১৭ জন এমপিওভূক্ত শিক্ষক৷ বিপরীতে ৪০/৫০ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক থাকে৷ এমপিওভূক্তরা অধিকাংশই নিম্ন মেধার এবং খণ্ডকালীনরা ব্যতিক্রম ছাড়া বিংলা ইংরেজি ঠিকমতো পড়তেও পারে না৷ বিজ্ঞান-গণিত বুঝে এমন শিক্ষক আরো কম৷ খণ্ডকালীনদের মাসিক বেতন দেয় ২/১০ হাজার টাকা৷ একজন প্রাথমিক পাশ দোকান কর্মচারীও এর চেয়ে বেশি বেতন পান৷ ফলে এখানে মিনিমাম যোগ্যতা নিয়েও কেউ আসেন না৷ তারা নিজেরাই ধর্মান্ধতায় নিমজ্জিত৷ অলৌকিক ক্ষমতা ছাড়া পড়াশোনা না-জানারা কিভাবে শিক্ষক হয়ে বসতে পারে? তাই শিক্ষকরাও হয়ে থাকে অলৌকিক শক্তির পূজারী৷
এটা একটা মারাত্মক দুষ্টুচক্র৷ পরিবারে মৌলবাদী পিতা-মাতা জন্মের পরেই শিশুটিকে মৌলবাদী বানাতে বদ্ধ পরিকর হয়ে উঠে৷ মৌলবাদী সমাজও তাকে বিকাশহীন করে রাখে৷ মুক্তির পথ হতে পারতো হাই স্কুলগুলো৷ কিন্তু সেটা হয়ে উঠেছে মৌলবাদের আখড়া৷ মেধাহীনরা ওখানে কোন মেধাবীকে ঢুকতে বা টিকতে দেয় না৷ ওরা হাইস্কুল থেকে নজরুল-রবীন্দ্র জয়ন্তী, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গান, আবৃত্তিসহ যাবতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিতে পেরেছে৷ ওরা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতাকে সরিয়ে দিতে পেরেছে৷
আমরা গতবছর আমাদের স্কুলে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম৷ আমার ও আব্দুর রহমানের বিতর্ক করার অভিজ্ঞতা ও আমার প্রশিক্ষণ থাকায় সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি৷ কিন্তু কতিপয় মূর্খ মৌলবাদী বিতর্ককে নাস্তিকতা আখ্যা দিয়ে প্রচারণা চালায়৷ ওরা মৌলবাদী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী একাকার হয়ে উঠে৷ ওদের মূল আপত্তি- আমাদের কর্মকাণ্ড ওদের অপকর্মে নাকি বিঘ্নতা তৈরি করে৷
বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে না পারলে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা বন্ধ হবে না৷ সাম্প্রতিক মৌলবাদী হামলাগুলোতে দেখলাম, হামলার শিকার শিক্ষকগণ অপেক্ষাকৃত মেধাবী, ভাল শিক্ষক, প্রগতিমনা ও হিন্দু৷ হামলাকারীরা অধিকাংশই ছাত্র ও মুসলিম মৌলবাদী৷ স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, মৌলবাদী চেতনার শিক্ষার্থীরা সাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার কারণে প্রগতিমনা হিন্দু শিক্ষকদের উপর হামলা চালিয়েছে৷
স্কুলগুলো বিষধর সাপ হয়ে ডিম পেরে তা দিচ্ছি আর জন্ম দিচ্ছে বিষধর সাপ৷ আমরা ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গানের পাখি জন্ম নিবে আশা করছি৷ তাই দাবি করছি-
১) মাধ্যমিকের শিক্ষক কাঠামো পরিবর্তন করে এমপিওভূক্ত শিক্ষক বাড়াতে হবে৷ মাধ্যমিকের শিক্ষদের বেতন বাড়াতে হবে৷ শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা আরো বাড়াতে হবে৷
২) বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা দিতে হবে এবং অবৈজ্ঞানিক বিষয় পড়ানো বাদ দিতে হবে৷ শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে৷
৩) স্কুলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালাতে হবে, পাঠ্য বইর বাইরে যাতে শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বই পড়তে বাধ্য হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে৷ লাইব্রেরিয়ানদের দিয়ে ক্লাস নেওয়া নিষিদ্ধ করতে হবে৷ অযোগ্য খণ্ডকালীনদের দিয়ে পাঠদান নিষিদ্ধ করতে হবে৷ খণ্ডকালীন শিক্ষক হওয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে৷
৪) মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আক্রমন ও লাঞ্ছিত করাকে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে৷ শিক্ষকদের বিজ্ঞানবিরোধী কথা বলা, যৌন হয়রাণী করা ও দুর্নীতি করাকে অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করে বরখাস্ত করতে হবে৷ বিজ্ঞানবিরোধী ও যৌন হয়রাণীমূলক কথা বলা ছাড়া ক্লাসে শিক্ষকদের কথা বলাকে দায়মুক্তি দিতে হবে৷
স্কুলগুলোতে বিষধর সাপের ডিমে তা দেয়া বন্ধ করান৷ দেশও সভ্য ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে৷

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews