1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:০৫ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলায় ৫ ইউএনও নারী

মোঃ ফাওজুর রহমান সাবিত
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩
ঝিনাইদহ জেলার ৬ উপজেলার মধ্যে ৫ উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫ নারী।
ইতিমধ্যে এই উপজেলাগুলোতে বাল্য বিবাহ বন্ধ, শিক্ষার মান উন্নয়নে, মাদক বিরোধী কার্যক্রম ,যৌতুকসহ নানা ভাল কাজে প্রশংসা পেয়েছেন তারা। দিনে কিংবা রাতে নিজ দায়িত্ব পালনে ছুটছেন গ্রামে গ্রামে। খোঁজ খবর নিচ্ছেন সরকারি কাজ কর্মের। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজে এই পাঁচ নারী ইউএনও অবদান রেখেই চলেছেন।
ইউএনও পাঁচজন হলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সাদিয়া জেরিন,শৈলকুপা উপজেলায় রাজিয়া আক্তার চৌধুির,হরিনাকুন্ডু উপজেলায় সুস্মিতা সাহা,কালীগঞ্জ উপজেলায় ইসরাত জাহান, কোটচাদপুর উপজেলায় উছেন মে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগাদান করেন। সেখানে দায়িত্ব পালন করার পর ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ২০ ডিসেম্বর ২০২২ সালে নিযুক্ত হন। ৩৩তম বিসিএস এর ক্যাডার তিনি।
৩৪ তম বিসিএস এ উত্তীর্ণ প্রশাসনে ক্যাডারের কর্মকর্তা রাজিয়া আক্তার চৌধুরী শৈলকুপা উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন ২ অক্টোবর ২০২২ সালে।
৩৪ তম বিসিএস এ প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব শেষে ৯ মার্চ ২০২২ সালে হরিনাকুন্ডু উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যুক্ত হন সুস্মিতা সাহা।
গত ২০ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে সালে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আসেন ইসরাত জাহান। তিনি ৩৪তম বিসিএস কর্মকর্তা।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আসেন উছেন মে। তিনি ৩৪তম বিসিএস কর্মকর্তা এবং কোটচাদপুরে যোগদান করেছেন ১২ মার্চ ২০২৩ তারিখে।
দক্ষতা ,প্রতিভা আর মানবদরদি জনবান্ধন প্রশাসন বলতে যা বোঝায় তা এই ৫ ইউএনওর মধ্যে দেখা গেছে। নিজেদের সরকারি দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি উপজেলার বাল্য বিবাহ বন্ধ,খেলা ধুলা, শিক্ষার মান বাড়ানো, যৌতুকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা, মাদক নির্মুল, নারীর ক্ষমতায়ন, জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা, ডিজিটাল ভুমিসহ বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়ে সফলতা দেখিয়েছেন।
বিশেষ করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এই ৫ ইউএনও। দিন কিংবা রাতে যখনই কোথাও বাল্য বিবাহের খবর পান তখনই ছুটে যান সেখানে। বাল্য বিবাহের অপরাধে জেলা কিংবা জরিমান করে বাল্য বিবাহ বন্ধ করে আসছেন তারা।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিন জানান, প্রথমে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে তিনি দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি নানা সামাজিক কাজ করেছেন। যা কালীগঞ্জ বাসী মনে রাখবেন। তিনি বলেন বর্তমানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। চেষ্টা করছি স্বচ্ছতা ও ভাল মতো উপজেলা পরিচালনার জন্য।
সরকারের সেবাগুলো যাতে নাগরিকরা নিশ্চিত ভাবে পেতে পারে তার জন্য দিন রাত কাজ করছি। ইউএনও সাদিয়া জেরিন আরো জানান, বর্তমান প্রশাসন জনবান্ধবন। এছাড়াও সরকারের অনেক কাজের পরিধি বেড়েছে। সরকার বিভিন্ন ভাবে মানুষের সেবা/সহযোগিতা প্রদান করছে। সেই গুলো যাতে স্বচ্ছতা এবং সুন্দর ভাবে পরিচালিত হয় সে ব্যাপারে তিনি দপ্তরের কর্মকর্তা-জনপ্রতিনিধি এবং জনগনকে সাথে নিয়েই করছেন। এছাড়াও তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াটা গর্বের বিষয় বলে মনে করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, প্রায় ৬মাস হলো কালীগঞ্জে আছি। কি ধরনের কাজ করছি তা ইতিমধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা বাসী জেনেছেন। শুধু সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে না একজন ব্যক্তি হিসেবেও সমাজের জন্য কিছু দায়িত্ব আছে। তিনি বলেন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সঠিক ভাবে কাজ করতে পারেন। কালীগঞ্জ উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত,মাদক মুক্তসহ নানা ধরনের কাজ করছি।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উছেন মে বলেন, প্রায় ২মাস হলো কোটচাদপুর উপজেলায় দায়িত্বে আছি। ইতিমধ্যে এই উপজেলাতে যুক্ত হয়ে সরকারি দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বল্যা বিবাহ প্রতিরোধ করেছি। ইউএনও পদে নারি পুরুষের ভেদাভেদ দেখি না। তিনি বলেন, নারি কিংবা পুরুষ ইউএনও তাদের কর্মদক্ষতায় উপজেলা বাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌছানো যায়।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাাহী অফিসার রাজিয়া আক্তার চৌধুরী জানান, শৈলকুপা উপজেলাতে আগার আগে অনেক কথাই শুনেছিলাম। কিন্তু আসার পর দেখলাম এই উপজেলার মানুষ অনেক আন্তরিক। তবে এই উপজেলায় বাল্য বিবাহ, এবং সামাজিক বিরোধ দেখা যায়।
উপজেলায় যুক্ত হবার পর সরকারি কাজের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাল্য বিবাহ মুক্ত করেছি। এছাড়াও কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করছি।
তিনি আরও বলেন, ইউএনও হিসেবে নারী পুরুষ ভেদাভেদ নেই। এই পদে থেকে জনগনের জন্য অনেক কাজ করা যায় এবং সরকারের সেবাগুলো জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews