1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ১১:২৬ অপরাহ্ন

এতো পয়গম্বর আসার পরেও আরব-পারস্য কেন অন্ধকারে?

মজিব রহমান
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩
আরব-পারস্যে আলো জ্বালাতে ১ লক্ষ ২৪ হাজার বা ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রসুল এসেছেন৷ তাতে আরব-পারস্য কতোটা আলোকিত হয়েছে? পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে একজনও নবী-রসুল আসার তথ্য নেই৷ সেখানেই জ্ঞান ও সুন্দর জীবনের আলোয় আলোকিত? আরবের এতো পেট্রোডলার কোন কাজেই আসলো না! তাদের মূর্খতায় সেই পেট্রোডলার বিভিন্নভাবে আবার চলে যাচ্ছে পাশ্চাত্যেই৷ অনেকে বলবেন, অন্যত্র আসেনি তার যুক্তি কি? ইহুদি ও খৃষ্ট ধর্ম ছাড়া সারা বিশ্বে ছিল প্যাগান টাইপ ধর্ম৷ নবী-রসুলরাতো একেশ্বরবাদী ধর্ম প্রচারেই আসবেন, দেব-দেবীর আরাধনার কথা বলতে আসবেন না৷ এজন্যই আরব-পারস্যর কথা বলা৷
মানব উন্নয়ন সূচকে শীর্ষ ২৫টি দেশের মধ্যে একটিও মুসলিম দেশ নাই! সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর তালিকায় মুসলিম দেশের নাম ভরপুর৷ মানচিত্রে মরুভূমির সাদা রঙ দেয়া হয়েছে বর্বর দেশগুলোর ক্ষেত্রে৷ শাদাকে শান্তি ভেবে মুসলিমরা পুলকিত হতে পারে! মানবাধিকার ইনডেক্সে সবচেয়ে খারাপ দুটি দেশ ইয়েমেন ও ইরান! হওয়ারই কথা৷ সবচেয়ে খারাপ ২৫টি দেশের মধ্যে পাবেন মিশর, সিরিয়া, সুদান, ইরিত্রিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইথোপিয়া, বাহরাইন, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, সৌদী আরব, চাঁদ, তুর্কেমেনিস্তানের নাম৷ সবচেয়ে ভাল ২৫টি দেশের তালিকায় একটিও মুসলিম দেশ নেই৷
গণতন্ত্র সূচকে শীর্ষ ৪টি দেশ হল— ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন! শীর্ষ ২৫টি দেশের মধ্যে কোস্টারিকা বাদে সবই পাশ্চাত্যের দেশ৷ সবচেয়ে খারাপ গণতন্ত্রের ৪টি দেশ হল— ইরেত্রিয়া (৩৭% মুসলিম), উত্তর কোরিয়া, ইয়েমেন ও সৌদী আরব! শীর্ষ খারাপ দেশের অধিকাংশই আরবের মুসলিম দেশ৷ স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন রকম ইনডেক্স রয়েছে৷ হেলথ কেয়ার সিস্টেম ইনডেক্সে ১৯তম দেশ কাতার৷ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এটাই একমাত্র মুসলিম দেশ যে শীর্ষ ২৫ এ আছে৷ যথারীতি খারাপ দেশগুলো আফ্রিকা, আরব, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো৷ ভাল দেশের তালিকায় রয়েছে— দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ডেনমার্ক, অষ্ট্রিয়া, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও স্পেন..! কেন সব ইনডেক্সেই মুসলিমদের দূরবস্থা? এতো নবী ও রসুল তাদের উন্নয়নে কেন ভূমিকা রাখতে পারেনি?
আমার ঘণিষ্ঠতম বন্ধু অসীম কুমার বর্মন অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী। সে দেশে ফিরবে না ওখানকার উন্নত ও সাস্ত্রয়ী চিকিৎসার জন্যই। রাষ্ট্র ওখানে ব্যক্তিগত বিষয়ে মাথা ঘামায় না। মানুষের অধিকারও অনেক। তবে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু মৌলবাদী ব্যক্তিগতভাবে মানুষের মত প্রকাশে বাধা দেয়। আরবের লোকেদের বর্বরতার বহু উদাহরণ আমরা জানি। আমাদের দেশ থেকে যে বোনেরা আরবে যায় গৃহকর্মী হিসেবে, তাদের বহুজনই ধর্ষিতা হওয়ার ঘটনা আমরা জানি। সেখানে এখনো ধর্মীয় বর্বর আইনে গৃহকর্মীদের দাসী ভেবে ধর্ষণ করে। এটাকে ওরা ধর্মীয়ভাবে অধিকারই মনে করে। আমাদের বিক্রমপুর থেকে বহু লোকই পাশ্চাত্যের দেশে থাকে। তারা দেশে এসে ওসব দেশের প্রশংসাই করে। বিপরীতে আরব থেকে ফিরে আসা বন্ধুরা আরবের মানুষদের অমানবিক ও বর্বর আচরণের কথাই বলে। সম্প্রতি এক চরম বোকা লোকের সাথে কথা হল। সে সিংগাপুরে গিয়ে ৭০/৮০ লক্ষ টাকা কামিয়ে দেশে এসে এদেশের মানুষের প্রতারণায় আবারো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আমি বললাম, আপনি যে পরিমাণ সহজ-সরল, ওখানে কাজ করতেন কিভাবে? সে বলল, কাজ-কাম ভাল পারতাম না ঠিক তবে ওরা আমাকে কখনোই ঠকায়নি, আমার টাকা পয়সা মেরে খায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি গল্প এদেশে খুব চালু আছে। দক্ষিণ কোরিয়ানরা দেখলো, মুসলিমরা সারাদিন না খেয়ে রোজা পালন করে। একজন বলল, ‘আপনি তো গোপনে কিছু খেয়ে নিতে পারেন’। বাঙালি মুসলিম বলল, ‘আমাদের দেশের কেউ এটা করবে না। গোপনে খেলেও আল্লাহ তা দেখবেন।’ কোরিয়ান বলল, ‘তাহলেতো আপনাদের দেশে কোন দুর্নীতি নেই, সন্ত্রাস নেই, খারাপ কাজ নেই, ভোট ডাকাতি নেই, ধর্ষণ নেই। খুবই শান্তির দেশ।’ বাঙালি মুসলমান মনে মনে হাসে আর ভাবে, এর সবকিছুই আছে। ধর্ম মানুষের মধ্য থেকে কোন খারাপ কাজ করা থেকেই বিরত রাখতে পারে না। বরং মানুষ উৎসাহিত হয়। তারা জানে অতগুলো খারাপ কাজের বিপরীতে একটা ভাল কাজ করলেই মাফ পাওয়া যাবে। অথবা ধর্মে নির্দেশনা দেয়া আছে৷ যেমন খাস দিলে তওবা করলে বা হজ্ব করলে অনেক গুণাহই মাফ হয়ে যাবে। ফলে মানুষ বেশি করেই অপরাধ করে।
আরবে একসময় জ্ঞানচর্চাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা নির্মমভাবেই দমন করা হয়েছে। এখন জ্ঞানচর্চা দূরে রেখে ওরা কেবল যৌনতার চর্চটাই ঠিক মতো করছে। সুশিক্ষাও ওখানে নেই। পৃথিবীর সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিও ওখানে নেই। এগুলোর নাম আমরা জানি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি এখন তালিকার এক নম্বরে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড ইউনিভার্সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক), লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটি। পৃথিবীর ১৬৬২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের বাংলাদেশের ৩টি রয়েছে। সিরিয়াল করা ৮০০টির মধ্যে একটিও নেই। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের ১৬টি, ভারতের ৬৩টি, নেপালের একটি এবং শ্রীলঙ্কার দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় জায়গা পেয়েছে। সৌদী আরবের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর সেরা ২০০ এর মধ্যেও আসতে পারে না। ৩৫১-৪০০ এর মধ্যে ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। মিশরের বিখ্যাত আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ড র‌্যাংকিং ৮০১-১০০০ এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। অথচ আল আযহারের গালভরা নাম শুনলে মনে হবে শীর্ষ দশেই বুঝি আছে! এ তথ্যটা সলিমুল্লাহ খান জানলে হয়তো আঁতকে উঠতেন!
এটা স্পষ্টভাবেই বলা যায় মানহীন শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা না করায় আরব-পারস্যের মানুষ এখনো সভ্য হয়ে উঠেনি। ১ লক্ষ বা ২ লক্ষ ২৪ হাজার পয়গম্বর এসেও তাদের সভ্য জাতিতে পরিণত করতে পারেনি। বিস্ময়কর যে আজকের দিনে এসেও ভাল সূচকগুলোতে তারা খুবই পিছিয়ে আছে। সমস্ত খারাপ সূচকে মুসলিমদের জয়-জয়াকার! কেন? যত দ্রুত ভাববেন, মুক্তিও তত দ্রুতই পাবেন৷ ধর্মান্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে জ্ঞান চর্চায় ধাবিত না হলে পরিত্রাণ মিলবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews