সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, খান আশরাফ আলী, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস, শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, খান আকরাম হোসেন, শেখ মো. উকিল উদ্দিন ও মো. মকবুল মোল্লা। তাদের মধ্যে খান আশরাফ আলী, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল পলাতক।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউটর সুলতানা চমন রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ৯ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। ওই দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাতক আসামি সুলতান আলী খান ও মনিরুজ্জামান হাওলাদারের মৃত্যুর খবর জানালে রায় ঘোষণা মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।
পরে পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে এ দুই আসামির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। এরপর দুই আসামিকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এ আবেদন গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল ওই দিন রায় ঘোষণা না করে তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে সব অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছেন। আসামিদের মধ্যে যে দুজন কারাগারে আছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। আর যারা পলাতক, তাদের আহ্বান জানাব- আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা যেন আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি এই ১৪ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
প্রসিকিউশনে দাখিলের পর তা যাচাই-বাছাইয়ের পর ওই বছর ২৮ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। বিচারকাজের আগে-পরে ও বিচার চলার মধ্যে সাত আসামির মৃত্যু হলে তাদের বাদ দিয়ে বাকি সাত আসামির ক্ষেত্রে রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলার আসামিরা মুসলিম লীগ ও পরে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে অপরাধ করেন।

















