বগুড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, নাট্যকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মী সিজুল ইসলাম যুক্ত হলেন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষণায়। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চা, উপস্থাপনা ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার পর তিনি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের ঘোষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যা তাঁর পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বেতার ঢাকা ‘ক’ কেন্দ্র (৬৯৩ কিলোহার্টজ)-এ অনুষ্ঠান ঘোষণায় অংশ নেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বেতারের মতো ঐতিহ্যবাহী ও জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। সিজুল ইসলাম জানান, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ বেতারের এফএম ৯২ মেগাহার্টজ-এও শ্রোতারা তাঁকে ‘কথাবন্ধু’ হিসেবে নিয়মিতভাবে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নাট্যচর্চা, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তিনি বর্তমানে বগুড়া থিয়েটার পরিবার, ঢাকা-এর যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজ থিয়েটার বগুড়ার সাবেক সভাপতি ও বগুড়া থিয়েটারের সাবেক কর্মী বগুড়া ও ঢাকাকেন্দ্রিক বিভিন্ন নাট্যপ্রযোজনা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং মঞ্চ কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে। মঞ্চনাটকের পাশাপাশি তিনি উপস্থাপক ও কলাম লেখক হিসেবেও পরিচিত।
শিক্ষাজীবনে তিনি বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন শেষে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চমরগাছা গ্রামে। ছাত্র অবস্থায় সোনাতলা থিয়েটারের সাথে তিনি যুক্ত হোন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি স্কাউটিং, বিতর্ক ও নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা ও অনলাইন গণমাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে তিনি গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে তাঁর লেখা ও কাজ প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি শিক্ষা ও উন্নয়ন খাতেও পেশাগতভাবে যুক্ত রয়েছেন। কাজ করছেন শিক্ষা নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম এই তিন ক্ষেত্রের সমন্বিত চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখাই তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান সিজুল ইসলাম।
বাংলাদেশ বেতারে তাঁর যুক্ত হওয়ায় বগুড়া জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সহকর্মী, নাট্যকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা মনে করছেন, তাঁর কণ্ঠ, ভাষা-দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বেতার অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং শ্রোতারা একজন সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল কথাবন্ধুকে পাবেন।
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট