উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমেই একটি শীর্ষ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। দেশটির সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিপুল বিনিয়োগ, গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধা সব মিলিয়ে চীন এখন বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিশ্বমানের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই নয় বরং বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এবং চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার সুবিধা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই অগ্রগতির বাস্তব চিত্র সরাসরি উপলব্ধি করা যায় চীনে বসবাস ও পড়াশোনার অভিজ্ঞতা থেকে। যারা চীনে থেকেছেন, তারা জানেন দেশটি কত দ্রুত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই চীন যেন ইতোমধ্যে ২০৫০ সালের জীবনধারায় প্রবেশ করেছে। দৈনন্দিন জীবনে কাগজের নোট বা কয়েনের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে; খাবার কেনা থেকে শুরু করে পরিবহন ভাড়া, কেনাকাটা কিংবা বিল পরিশোধ সবকিছুই উইচ্যাট পে ও আলী পে (We Chat Pay & Alipay) এর মতো ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এই প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে ডিজিটাল দক্ষতা ও আধুনিক জীবনব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
অন্যদিকে, যেসব শিক্ষার্থীর স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে, তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য দেশও বিবেচনায় নিতে পারেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উচ্চশিক্ষা শেষে কাজ ও বসবাসের জন্য চীন বর্তমানে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় ভিসা নীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করছে।

বিশ্বব্যাপী গবেষণা পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চীনা গবেষকদের সংখ্যা ও গবেষণায় অবদান দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চীন এখন জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য হারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এখন সেখানে পড়তে যাচ্ছে এবং কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে সারাবিশ্বে গমন করছে। বর্তমানে চীনে অনেক বাংলাদেশীসহ বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
লেখক: কাজী নুর/ফুজউ বিশ্ববিদ্যালয়, চীন
ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট