1. fauzursabit135@gmail.com : S Sabit : S Sabit
  2. sizulislam7@gmail.com : sizul islam : sizul islam
  3. mridha841@gmail.com : Sohel Khan : Sohel Khan
  4. multicare.net@gmail.com : অদেখা বিশ্ব :
শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ১২:০৫ অপরাহ্ন

আমার বাবা: আমার গাইড, ফিলোসফার, শিক্ষক ও পিতা

ডা.মোজাহিদুল হক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
আমার বাবা, আমার জীবনের সেরা আদর্শ,। আমার দেখা আজ অবধি সেরা নীতিবান ও সৎ একজন মানুষ।তাঁর মাত্র একটি কলমের খোঁচায় ইচ্ছে করলেই হয়ে যেতে পারতেন কোটি কোটি টাকার মালিক। সারা জীবন প্রচন্ড পরিশ্রম করেছেন, অভাব সহ্য করেছেন কিন্তু নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দেননি।
বাবা কে নিয়ে আমার অনেক গর্ব হতো। আমার বাবা ছিলেন একাধারে কঠোরতা, কোমলতা আর ভালোবাসায় ভাসিয়ে দেওয়ার মতো একজন মানুষ।
আমাদের ছোটবেলায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একবার টেকনাফ গিয়েছিলেন। জিয়া যাবার আগে বলেছিলেন সেখানে যদি কোন সৎ এবং নীতিবান কর্মকর্তা থাকেন তাহলে তিনি তার বাসার খাবার খাবেন নতুবা তিনি না খেয়ে ফেরত যাবেন। সেবার জিয়াউর রহমান আমাদের বাসার খাবার খেয়েছেন।
নিজের সততার উপর প্রচন্ড আত্নবিশ্বাস ছিলো। মনে পড়ে বাবাকে নিয়ে অনেক স্মৃতি। অনেক অনেক ভালোবাসতেন আমাকে। আমার ইন্ডিয়ায় পড়তে যাবার সময় নিজের জিপি ফান্ডের টাকা তুলে আমাকে দিয়েছিলেন তবুও মাথা নত করেন নি। বাবা ছিলেন একাধারে আমার বন্ধু, গাইড ফিলোসফার, শিক্ষক।
শিখিয়েছেন অনেক কিছু। এখনো খুব অসহায় বোধ করলে কিংবা বিপদে পড়লে বাবার শেখানো পথে কিংবা চোখ বন্ধ করে বাবার মুখটা দেখলে আমি রাস্তা খুঁজে পাই।বাবা খুব বিপদে পড়লেও কখনো ঘাবড়ে যেতেন না, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতেন। আমার ছয় বছর বয়সে শিখিয়েছেন পেপার পড়ার অভ্যাস। সাত বছর বয়সে টাইপ রাইটারে টাইপ করা। প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস আমার বাবার কাছ থেকেই শেখা। যে বয়সে বাবারা ছেলেদের কিনে দেন টয়গাড়ী সে বয়সে আমার বাবা আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন অলি আহাদের লেখা জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫ কিংবা এ জেড এম শামসুল হকের ফ্যামিলি ভ্যেলুজ। শেখাতেন সামাজিকতা, নম্রতা আর সমসাময়িক রাজনীতি।
মনে পড়ে বাবা খুব আদর করে আমায় ডাকতেন রুপ্পা বলে, আরো বলতেন আমি বাবার রুপালী ব্যাংক। আমার সারাজীবনের প্রিয় মুহূর্ত বাবার অফিস থেকে ফেরার মুহুর্ত। প্রিয় গন্ধ বাবার শরীরের গন্ধ। এতোটা পরিপাটি করে চুল আঁচড়াতে আমি আজ পর্যন্ত কাউকে দেখিনি যতটা আমার বাবা আঁচড়াতেন।
যেখানেই বদলী হতেন নিজ হাতে বাগান করতেন। অসম্ভব ফলন হতো সে সব বাগানে। আম্মাকে খুব ভালোবাসতেন। আম্মাকে ছাড়া শুধু বাবাকে যদি একা দাওয়াত করতো খুব রাগ করতেন। যেতেন না সে সব দাওয়াতে। মনে আছে গ্রামের বাড়ী থেকে লোকজন কিংবা অতিথী গেলে খুটিয়ে খুটিয়ে সবার কথা জিজ্ঞেস করতেন। আর বলতেন উমুক দিন ছাড়া কিন্তু যেতে পারবেনা। বাবার বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে কেউ গেলে খুব কষ্ট পেতেন।
আমার বাবা খুব ভালো এডমিনিস্ট্রেটর ছিলেন আমাকে শেখাতেন উনার মতো হতে। আমার সাথে প্রান খুলে অনেক কথা বলতেন যেটা আমার আর কোন ভাই বোনের সাথে করতেন না।
মনে পড়ে আমাদের সবার রাতের খাবার পর আড্ডার জায়গা ছিলো আমাদের ডাইনিং টেবিল। আমি যেবার কলেজে উঠলাম ডাইনিং এ বাবা হাসতে হাসতে সবার সামনে আমাকে বললেন, বাবা রিপু তুমি কালকে কলেজে যাবে, কলেজ বিশাল পরিসর, ছেলে মেয়েদের অবাধ চলাফেরা থাকবে, কারো কোনো বাধা নিষেধ থাকবেনা, অনেক কে ভালো লাগবে, পছন্দ ও হবে কাউকে কাউকে তবে যাই করো আমাদের ফ্যামিলির মান মর্যাদা আর বাবার সম্মান এর কথা মাথায় রেখো। অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাইতো পা পিছলায়নি কখনো।
আমার মেডিকেলে পড়ার সময় ছুটিতে বাসায় এলে মজার ছলে বলতেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি আমার রুপ্পা খুব সুন্দর টুকটুকে একটা বউ নিয়ে বাড়ী আসছে। মজা করে বের করতে চাইতেন মনের কথা।
বাজার করতেন হাত খুলে, আমাদের খাওয়ানোর বেলায় জীবনে কখনো কৃপণতা করেননি। ঝুঁড়ি ভর্তি আম কিনতেন। দশ কেজির নীচে কখনো মাংস কিনতে দেখিনি। মানুষকে দাওয়াত করে খাওয়াতে খুব ভালোবাসতেন। তবে কেউ অপচয় করলে খুব রাগ করতেন। আমাদের সবাইকে নিয়ে ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলা দেখতেন খুব মজা করে।
নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন আমাদের ও পড়তে উৎসাহিত করতেন। অনেক সুন্দর করে পাটিগণিত ও বীজগণিত বুঝাতেন। বাবার ইংরেজী ও বাংলায় অসামান্য দক্ষতা ছিলো। হাতের লেখা ছিলো মুক্তোর মতো।
অসামান্য প্রতিভার অধিকারী আমার বাবা মারা যাবার ঠিক মাস দু’ এক আগে আমাকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে পেনশন তুলতে হয়, আমার হাতে নিজহাতে পূরন করা তিনটা পেনশন তোলার কাগজ দিয়ে বলেছিলেন যত্ন করে রাখবে, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে, বোকা আমি তখনো বুঝতেই পারিনি কিছু।
ধনী গরীব সবার সাথে সমান ভাবে মিশতেন। অন্য ধর্মের লোকজনের প্রতি সমান দৃষ্টি রাখতেন, বিপদে এগিয়ে যেতেন। বাবরী মসজিদ ভাংগার কারনে চট্রগ্রামে গণ্ডগোলের সময় অনেক কে আশ্রয় দিয়েছেন।যেখান থেকেই বদলী হতেন মানুষ জন খুব কাঁদতো।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহীনির নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। খুব আফসোস করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্দশা দেখলে।
আমার বন্ধুরা বাসায় এলে তাদের সাথে খুব আড্ডা মারতেন, আমার বন্ধুদের বলতেন সারাদিন তো ওর সাথে আড্ডা দাও এখন আমার সাথে আড্ডা দাও।
বাবাকে হারিয়ে আমি হারিয়েছি অনেক কিছু, আমার বন্ধু, আমার আমার ফিলোসফার আমার গাইড সব সব কিছু।
জানি আমাদের পরজনম বলে কিছু নেই যদি থাকত তাহলে খোদাকে বলতাম তুমি আমাকে প্রত্যেক জনমে কেবল তোফায়েল হকের সন্তান করেই দূনিয়াতে পাঠাবে খোদা। আমার বাবা কে তুমি বেহেশত নসীব কর খোদা। রাব্বীর হাম হুমা কামা রাব্বা আনী সাগিরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

Theme Customized BY LatestNews